মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্ব
প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী আব্রাহাম মাসলো মানুষের প্রেষণা (Motivation) ব্যাখ্যার জন্য ১৯৪৩ সালে এই তত্ত্বটি প্রদান করেন। তাঁর মতে, মানুষের চাহিদাগুলো ৫টি ধাপে বা স্তরে বিভক্ত। নিচের স্তরের মৌলিক চাহিদা পূরণ না হলে মানুষ ওপরের স্তরের চাহিদার দিকে আকৃষ্ট হয় না।
- ১. শারীরবৃত্তীয় চাহিদা (Physiological Needs): এটি মানুষের বেঁচে থাকার একদম প্রাথমিক ও শারীরিক চাহিদা। যেমন: খাদ্য, পানি, ঘুম, শ্বাস-প্রশ্বাস ইত্যাদি। একজন ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে সম্মান বা প্রতিপত্তির চেয়ে একবেলা খাবার অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- ২. নিরাপত্তার চাহিদা (Safety Needs): প্রথম স্তরের চাহিদা মোটামুটি পূরণ হলে মানুষ তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে শুরু করে। যেমন: নিরাপদ বাসস্থান, আর্থিক নিরাপত্তা (চাকরি বা আয়ের উৎস), সুস্থতা এবং বিপদমুক্ত পরিবেশ।
- ৩. সামাজিক চাহিদা (Love and Belonging Needs): নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে মানুষ একা থাকতে চায় না। মানুষ সামাজিক জীব, তাই সে পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং সমাজের মানুষের কাছ থেকে ভালোবাসা, স্নেহ এবং একাত্মতা বা সুসম্পর্ক আশা করে।
- ৪. সম্মানের চাহিদা (Esteem Needs): সামাজিক সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর মানুষের মনে অন্যের কাছ থেকে সম্মান, স্বীকৃতি ও মর্যাদা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জাগে। এটি মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। যেমন: অফিসে পদোন্নতি বা ভালো কাজের জন্য পুরস্কার।
- ৫. আত্মপ্রতিষ্ঠার চাহিদা (Self-Actualization Needs): এটি চাহিদার সর্বশেষ এবং সর্বোচ্চ স্তর। এর মানে হলো নিজের ভেতরের সুপ্ত প্রতিভার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটানো। একজন মানুষ তার নিজ যোগ্যতা দিয়ে সর্বোচ্চ যা হতে পারে, ঠিক তাই হওয়া।
প্রমাণ: বাস্তব জীবনে আমরা দেখি, একজন কর্মীকে শুধু সম্মান বা বড় পদবি দিলেই সে কাজ করবে না, যদি না তাকে ঠিকমতো বেতন (শারীরিক ও আর্থিক নিরাপত্তার চাহিদা) দেওয়া হয়।